
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতকে বলে এসেছি “”আওয়ামী লীগ কে ক্ষমতায় রাখতে হবে, টিকিয়ে রাখতে হবে, এর জন্য যা যা করার আপনারা করেন”” পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মুমিন হিন্দু সম্প্রদায়ের এক অনুষ্ঠানে উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন। তার এই বক্তব্যে জাতি হতাশ হয়েছে। দেশ প্রেমিক রাজনীতি বিদদের হ্নদয়ে রক্ত ক্ষরন হয়েছে। এতোদিন আওয়ামী লীগ বলেছেন বিএনপি শুধু বিদেশিদের নিকট ধরনা দিচ্ছে, শালিস দিচ্ছে। কিন্তু না, শুধু বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। অর্থাৎ দেশের বৃহত্তম দুটি দল এদেশের জনগণের চাইতে বিদেশিদের প্রতি বেশি আস্হাশীল। কারন, ১৯৯০ সালের পরে শাসনের নামে গনতন্ত্র, গনতন্ত্র বলে এমন ভাবে গনতন্ত্র’কে চিপরিয়েছে তাতে জনগণ তাদের প্রতি তিক্ত হয়ে গিয়েছে। তাই জনগণের প্রতি তাদের আস্হা ও বিশ্বাস নেই। ১৯৭৫ পরবর্তী ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সেনা শাসিত সরকার হলেও তাহারা জনগণের মঙ্গল করেছে। দেশে উন্নয়ন করেছে, শিল্প কারখানা গড়ে তুলেছে। মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্হা করেছে, বিদেশে শ্রম বাজার খুলেছে, দূর্নীতি ছিলো না,দেশের টাকা বিদেশে পাচার হয় নি, মানুষ ব্যবসা বানিজ্য করে পয়সার মালিক হয়েছে, সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করে নি।ঘুষ দিয়ে মানুষকে চাকরি নিতে হয় নাই,মেধার মুল্যায়ন ছিল। কিন্তু ১৯৯০ সালের পরে গনতন্ত্রের নামে জনগণের সাথে রীতিমতো প্রতারণা করা হয়েছ। সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ করা হয়েছে, বাংলাদেশ দূর্নীতিতে পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। চাকরির ক্ষেত্রে মেধাকে প্রাধান্য না দিয়ে ঘুষকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সরকারি মিল কারখানা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, উন্নয়নের নামে লুটপাট শুরু হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় নেতা কর্মীরা হত্যা, গুম পর্যন্ত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে, শেয়ার বাজার থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে, ঘুষ, দূর্নীতি, চুরি, লুটপাট, অর্থ পাচার, করেও যখন টাকার ভাগ বাটোয়ারা করে দেখে হিসেবে কম পরেছে তখনই তাহারা সরাসরি জনগণের পকেট কাটা শুরু করছে। তাদের গনতন্ত্র আমাদের পিয়াজ কিনতে হয়েছে ২৫০ টাকা কেজি দরে,, তাদের গনতন্ত্র আমদের কাঁচা মরিচ কিনতে হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি দরে, ৯০ টাকা লিটার সয়াবিন তেল হঠাৎ করেই জনগণ কে ধরিয়ে দিলেন ২০০ টাকা লিটার, আবার গতকাল ৩০ টাকা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়েছে, গনতন্ত্র আমাদের মোটা চাউল খাওয়াচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে। একটার পর একটা দ্রব্যের উপর সাওয়াব হয়ে সরকার নিজেই হাজার হাজার কোটি হাতিয়ে নিচ্ছে। আবার সরকার ইতিহাস রচনা করলেন জালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে। পৃথিবীর কোনো স্বৈরশাসকও তার দেশে জালানি তেলের দাম লিটারে ৪/৫ টাকা বাড়াতে সাহস করে না কিন্তু আমাদের দেশে গনতান্ত্রিক সরকার প্রতি লিটারে ৪০/৫০ টাকা বৃদ্ধি করার সাহস দেখিয়েছে।
কারন,জনগনের প্রতি যদি নূন্যতম দয়ামায়া থাকতো, দায়বদ্ধতা থাকতো,তাহলে এই ভাবে জনগণকে নিষ্পেষিত করা হতো না। পৃথিবীতে একটি বাজার রয়েছে যাহার নাম আন্তর্জাতিক বাজার। এই বাজারের দোহাই দিয়ে এ দেশে অনেক জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায় কিন্তু সেই বাজারে যখন দাম কমে যায় তখন এই গনতান্ত্রিক দেশে জিনিসের দাম আর কমে না। বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক বাজার কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে । বিএনপি যেমন জনগণ’কে রাস্তায় নামাতে ব্যর্থ হয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ধরনা দিচ্ছে, ঠিক আওয়ামী লীগও জনগণের উপর ভরসা না করে ভারতের দিকে তাকিয়ে আছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কথায় বুঝাতে পারলাম তাদের ক্ষমতার উৎস জনগণ নয়-তাদের ক্ষমতার উৎস ভারত।
আগামীতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হলে গোলাম মোহাম্মদ কাদের স্যারের বিকল্প নেই। কারণ জাতীয় পার্টি সব সময় মনে করে রক্তস্নাত এই স্বাধীন বাংলাদেশের একমাত্র মালিক এদেশের জনগণ। জাতীয় পার্টি জনগণের সাথে আছে, পাশে আছে।
Array