
নিউজ ডেস্ক: জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেন তিন ছাত্রপ্রতিনিধি। রাজনীতিতে ছাত্রদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি যখন স্পষ্ট হচ্ছিল, তখন পুরনো দলগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল। ছাত্রদের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশের আগে পদত্যাগ করে দলটির দায়িত্ব নেন উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। এখনও সরকারে আছে দুই ছাত্রপ্রতিনিধি।
এমন অবস্থায় সরকারে ছাত্রদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে মনে করে বিএনপি।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা আশা করি সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন কোয়ার্টারে। আমি আশা করি, সরকার সেখানে নিবিড় দৃষ্টি রাখবে। এটা দুর্ভাগ্যজনক হবে। আবার এটা হলে অন্য ধরনের প্রশ্ন উঠতে পারে।
নতুন দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নেই কি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করছে না সরকার, এমন প্রশ্নও করছেন নেতারা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা নতুন রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাদেরকে সময় দিতে চান, এমন প্রশ্ন উঠছে। আমরা প্রশ্ন করছি না, জনগণের পক্ষ থেকে এ রকম কিছু কিছু প্রশ্ন উঠেছে। তা না হলে উনি রোডম্যাপ দিতে বিলম্ব করছে কেন? উনার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করা হচ্ছে না।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনের কথা বললে তাদের মধ্যে একটা শঙ্কা-সংশয় কাজ করে, তাহলে তারাই তো দেশে অনৈক্য সৃষ্টির কাজ করছে। তারাই কিন্তু ফ্যাসিস্টের জন্য পথ উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। যে প্রশ্নগুলো উঠছে, সেগুলো যাতে না উঠে। বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে যে পরিবর্তন হয়েছে, যে আকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি হয়েছে, তা আমাদের সকলকে ধারণ করতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারকে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দেয়ার কথা বলছেন রাজনৈতিক নেতারা। সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের অংশ থেকে যারা একটি রাজনৈতিক দলকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন তা দৃশ্যমান। মানুষ এগুলো বুঝে তো। এই জায়গা থেকে সরকারকে বেরিয়ে আসতে হবে, তাদেরকে যেন জনগণ মনে করে, এই সরকার সত্যিকার একটি নিরপেক্ষ সরকার। কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কার্যক্রম করছে না অন্তর্বর্তী সরকার, তা পরিষ্কার করতে হবে।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) ছাত্রদের পক্ষ নিলে এ দেশের সমস্ত রাজনৈতিক শক্তি এটাকে ভিন্নভাবে দেখবে। যা ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্য করেছি। ছাত্ররা যদি ক্ষমতায় থাকে, তাহলে তারাই যদি রাজনৈতিক দল করে, সেই দলটি আলাদা একটি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে এবং পাবে এটাই বাস্তবতা। আমি মনে করি, ছাত্রদেরই উচিত নিজেদের থেকে সরে যাওয়া।
নিরপেক্ষতা রক্ষায় বিভিন্ন দফতর ও মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত ছাত্র প্রতিনিধিদেরও অপসারণ করা উচিত বলে মনে করে দলগুলো।
Array